বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে করণীয়: প্রথম পর্ব

SME Bangladesh : A History of Growth & Innovation

Bangladesh SME Forum

SME tv Desk:

বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র আজ এসএমই খাত। এই খাত শুধু কর্মসংস্থানের বৃহৎ উৎসই নয়, বরং এটি আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির পথ উন্মুক্ত করা, এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম প্রধান হাতিয়ার।

তবে এই সম্ভাবনাময় খাতটি এখনও একটি সমন্বিত, দৃষ্টিনন্দন ও বাস্তবভিত্তিক "জাতীয় এসএমই নীতিমালা"র অভাবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে পৌঁছাতে পারছে না। এসএমই ফোরামের পক্ষ থেকে আমরা জোরালোভাবে মনে করি, একটি আধুনিক, বাস্তবমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এসএমই নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি।

একটি কার্যকর জাতীয় এসএমই নীতিমালা শুধু কাগজে-কলমে নির্দেশনাই দেবে না, বরং এটি হবে দেশের সর্বস্তরের উদ্যোক্তাদের জন্য একটি রোডম্যাপ। যেখানে থাকবে:

> এসএমই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা

> অর্থায়নের সহজ প্রবেশাধিকার

> কর অবকাঠামোয় প্রণোদনা

> এক্সপোর্ট-মার্কেটের জন্য প্রস্তুতি

> নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা সহায়তা ইউনিট

> উদ্যোক্তাদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও নিয়মিত কাউন্সিলিং

> বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তার নিরাপত্তা বিধান

> গ্লোবাল এসএমই নেটওয়ার্কিং ও সাপোর্ট সেল ইত্যাদি।

এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের গাইডলাইন অনুসরণে, উদ্যোক্তা তৈরির ও টিকে থাকার টেকসই কৌশল হিসেবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি: 

১. Formalization, Digitalization and Legal Support: অনেক এসএমই এখনও অপ্রাতিষ্ঠানিক অবস্থায় চলছে। সহজকরণ নীতির মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ ও ব্যয়হীন করতে হবে।

২. Access to Finance: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত এসএমই স্কিম বাস্তবায়নে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে আরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। বিকল্প অর্থায়ন ব্যবস্থা, যেমন ক্রাউডফান্ডিং বা Angel Investing-এর অনুমোদন ও নীতিমালা জরুরি।

৩. Capacity Building: আন্তর্জাতিক উদাহরণ অনুযায়ী, প্রতিটি অঞ্চলে উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র (Entrepreneurship Development Center) স্থাপন করে স্কিল ট্রেইনিং, ইনোভেশন ও টেক ব্যবহারে প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার।

৪. Market Linkage and Digital Inclusion: ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসে অংশগ্রহণের জন্য প্রশিক্ষণ ও ভর্তুকি দেওয়া যেতে পারে। একইসাথে সরকারি কেনাকাটায় (public procurement) স্থানীয় এসএমই-কে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

৫. Monitoring and Evaluation: একটি স্বাধীন এসএমই রেগুলেটরি অথরিটি গঠন করে প্রকল্প মূল্যায়ন ও ফলাফলভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা যাবে।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল, দুর্ণীতিমুক্ত ও পেশাদার হতে হবে। এসএমই ফাউন্ডেশনকে অর্থবহ ও যুগোপযোগি ও কার্যকর কের্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে এসএমই ফাউন্ডেশনকে ঘিরে একটি সুবিধাবাদী চক্র প্রকাশ্য সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে; এই সিন্ডিকেট পৃষ্ঠপোষকতা দেয় আমলারা। এখানে ব্যক্তি পছন্দ ও অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা তথা সম্পর্কের চর্চাও হয় বলে বহু উদ্যোক্তাদের অভিযোগ রয়েছে। যা সত্যিই দু:খজকন। এসব থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এসএমই ফাউন্ডেশনকে মুক্ত করতে হবে।

জাতীয় এসএমই নীতিমালার অনুপস্থিতি অনেক সময় একই উদ্যোগকে বহুগুণে কম কার্যকর করে ফেলে। ফলে, আমাদের নীতি নির্ধারকদের এখন প্রয়োজন বিষয়ভিত্তিক পরামর্শ গ্রহণ, উদ্যোক্তা সংগঠনের সাথে সমন্বয় এবং বাস্তব অভিজ্ঞতাভিত্তিক কৌশল গ্রহণ করা।

প্রথম পর্বে আমরা মূল ভিত্তিগুলো নিয়ে কথা বললাম। আগামী পর্বে আমরা বলব – কর কাঠামো, উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নিয়ে কীভাবে বাংলাদেশে এসএমই বিপ্লব ঘটানো সম্ভব সে বিষয়ে।

অনেক শুভকামানা বাংলাদেশর েএসএমই খাতের উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি।

লেখক:  চাষী মামুন

  • সভাপতি, বাংলাদেশ এসএমই ফোরাম
  • ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, SME tv
  • প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, SME Shop Bangladesh
  • ০৯ জুন ২০২৫ | ঢাকা, বাংলাদেশ