কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে জুমার দিনের বিশেষ আমল ও দোয়া | Islam & Peace | SME tv

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে একটি দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। সেটি হলো ইয়াওমুল জুমু‘আহ (শুক্রবার)। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: “সূর্য উদিত হওয়া দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। এ দিনেই আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনেই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং এ দিনেই তাঁকে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে।” (সহিহ মুসলিম)

SME tv / Islam & Peace

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য ইবাদত, দোয়া, তওবা ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য সুযোগ। নিচে কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আমল তুলে ধরা হলো।

১. সূরা আল-কাহফ তিলাওয়াত করা

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি জুমার দিনে সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর (আলোক) বিকিরিত হবে।”
(সুনান আল-কুবরা, বাইহাকি; সহিহ বলে অভিহিত)

আমল: জুমার দিন বা জুমার রাতেই সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা উত্তম।


২. রাসূল ﷺ-এর প্রতি বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি দরূদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি দরূদ ও সালাম পাঠ কর।”
(সূরা আল-আহযাব: ৫৬)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ কর।”
(সুনান আবু দাউদ)

সহজ দরূদ:

اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা সাল্লি ‘আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া ‘আলা আ-লি মুহাম্মাদ।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ﷺ এবং তাঁর পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন।


৩. জুমার নামাজের জন্য আগে আগে মসজিদে যাওয়া

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে প্রথম সময়ে মসজিদে যায়, সে যেন একটি উট আল্লাহর পথে কুরবানি করল...”
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

আমল:

  • গোসল করা
  • পরিষ্কার পোশাক পরা
  • সুগন্ধি ব্যবহার করা (পুরুষদের জন্য)
  • আগে আগে মসজিদে যাওয়া
  • মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা

৪. দোয়া কবুলের বিশেষ সময় খুঁজে নেওয়া

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

“জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলিম বান্দা সালাতে বা আল্লাহর স্মরণে থেকে কোনো কল্যাণের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করেন।”
(সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

অনেক মুহাদ্দিসের মতে, এই সময়টি আসর নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।


৫. বেশি বেশি ইস্তিগফার ও তওবা করা

আল্লাহ বলেন:

“তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর; নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল।”
(সূরা নূহ: ১০)

ইস্তিগফার:

أَسْتَغْفِرُ اللّٰهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া আতূবু ইলাইহি।

অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তাঁর কাছেই তওবা করি।


৬. বেশি বেশি দোয়া করা
(ক) ক্ষমা ও রহমতের দোয়া

رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِنْ لَمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

অর্থ: হে আমাদের রব! আমরা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছি। আপনি যদি আমাদের ক্ষমা না করেন এবং আমাদের প্রতি দয়া না করেন, তবে আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।
(সূরা আল-আ'রাফ: ২৩)


(খ) দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের দোয়া

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

অর্থ: হে আমাদের রব! আমাদেরকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন, আখিরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।
(সূরা আল-বাকারা: ২০১)


(গ) হেদায়েত ও ঈমানের দৃঢ়তার দোয়া

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ

অর্থ: হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর দৃঢ় রাখুন।
(জামি‘ আত-তিরমিজি)


৭. কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির বৃদ্ধি করা

জুমার দিন শুধু নামাজের দিন নয়; এটি কুরআন তিলাওয়াত, তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির ও আল্লাহর স্মরণে অধিক সময় ব্যয় করার দিন।

যিকিরসমূহ:

  • سبحان الله (সুবহানাল্লাহ)
  • الحمد لله (আলহামদুলিল্লাহ)
  • لا إله إلا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ)
  • الله أكبر (আল্লাহু আকবার)

জুমার দিনের করণীয় সংক্ষেপে

✓ গোসল করা
✓ পরিষ্কার পোশাক পরা
✓ সুগন্ধি ব্যবহার করা (পুরুষদের জন্য)
✓ আগে আগে মসজিদে যাওয়া
✓ সূরা কাহফ তিলাওয়াত করা
✓ বেশি বেশি দরূদ শরিফ পড়া
✓ খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা
✓ ইস্তিগফার ও তওবা করা
✓ আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত বেশি দোয়া করা
✓ কুরআন তিলাওয়াত ও যিকির বৃদ্ধি করা

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন। এ দিনের প্রতিটি মুহূর্তকে ইবাদত, দোয়া, দরূদ, কুরআন তিলাওয়াত এবং আত্মসমালোচনার মাধ্যমে কাজে লাগানো উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের ফজিলত অর্জন করার তাওফিক দান করুন।

দোয়া:
اللَّهُمَّ اجْعَلْنَا مِنْ أَهْلِ الْجُمُعَةِ الَّذِينَ تَقَبَّلْتَ أَعْمَالَهُمْ وَغَفَرْتَ ذُنُوبَهُمْ

অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদেরকে সেই সৌভাগ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যাদের জুমার দিনের আমল আপনি কবুল করেছেন এবং যাদের গুনাহ ক্ষমা করেছেন। আমিন।