জাতীয় সংকটে সবার আগে মানুষের কথা ভাবতে হবে : স্মরণ সভায় ডা. জুবাইদা রহমান

রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গতকাল আয়োজিত অনুষ্ঠানে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান | ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল

জাতীয় যেকোনো দুর্যোগে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেছেন, ‘দুর্যোগে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার সর্বোচ্চ প্রকাশ এবং পারস্পরিক সহমর্মিতা ও মমত্ববোধের মধ্য দিয়েই একটি মানবিক সমাজ গড়ে ওঠে। জাতীয় সংকটের সময় সবার আগে মানুষের কথা ভাবতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করা শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি নৈতিক দায়িত্বও।’

গতকাল রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘২১ জুলাই মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্মরণসভা-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাইলস্টোন স্কুলের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ডা. জুবাইদা রহমান। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘সীমাহীন শোকের মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ধৈর্য ও দৃঢ়তা জাতির জন্য অনুপ্রেরণার।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, ‘২০২৫ সালের ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুলে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা দেশের ইতিহাসে এক শোকাবহ অধ্যায় হয়ে থাকবে।’ দগ্ধ শিশুদের উদ্ধারে নিজের জীবনের ঝুঁকি নেয়া শিক্ষিকা মেহরিনের আত্মত্যাগের প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান। মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর সিঙ্গাপুর, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পাশাপাশি দেশের চিকিৎসকরাও আন্তরিকতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে আহতদের চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।’

সম্প্রতি সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের বার্ন ইউনিটের স্কিন ব্যাংক ও চিকিৎসকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগের প্রশংসা করেছে বলেও জানান তিনি।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন বলেন, ‘দগ্ধ রোগীর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি বার্ন প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।’ তিনি ২১ জুলাইকে ‘বার্ন সচেতনতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণার আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ পেলে আগামী তিন মাসের মধ্যে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটকে দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

স্মরণসভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এমএ মুহিত, ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, অধ্যাপক ফরহাদ হালিম ডোনার, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার, ড্যাব সভাপতি ডা. হারুনুর রশীদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় দুর্ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্তদের চিকিৎসা ও সহায়তায় বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।