এসএমই খাতের উন্নয়নে করণীয়: ৪র্থ পর্ব | Chashi Mamun | SME Forum | SME TV

SME Bangladesh : A History of Growth & Innovation

   বাংলাদেশ এসএমই ফোরাম

বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে করণীয়: ৪র্থ পর্ব

             চতুর্থ পর্বে আমরা আলোকপাত করবো এসএমই নীতিমালার রূপায়ন কৌশল, জবাবদিহিতা ও মূল্যায়ন কাঠামো নিয়ে। বাংলাদেশের এসএমই খাতের জন্য একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বাস্তবভিত্তিক নীতিমালার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের একটি কার্যকর ব্যবস্থাপনা কাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নীতিমালা যত ভালো হোক, যদি তা বাস্তবায়নে দুর্বলতা থাকে তবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জিত হবে না।

১. রূপায়ন কৌশল (Implementation Strategy):

  • নীতিমালাকে কার্যকর প্ল্যান-অফ-অ্যাকশনে রূপান্তর: প্রতি তিন বছরে হালনাগাদযোগ্য অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিটি উদ্যোগের টাইমলাইন, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, বাজেট ও মাইলস্টোন নির্ধারণ থাকবে।

  • ডিস্ট্রিক্ট এসএমই একশন কমিটি: প্রতিটি জেলায় একটি এসএমই একশন কমিটি গঠন করে স্থানীয়ভাবে নীতির প্রয়োগ ও উদ্যোক্তাদের সহায়তা নিশ্চিত করা উচিত।

  • এক্সিকিউশন পার্টনার: সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি খাত, ব্যবসায় সংগঠন এবং এনজিও-কে রূপায়ন সহযোগী হিসেবে যুক্ত করা যেতে পারে।

২. জবাবদিহিতা ও ট্রান্সপারেন্সি:

  • নির্ভরযোগ্য মনিটরিং সিস্টেম: একটি স্বাধীন ‘ন্যাশনাল এসএমই মনিটরিং ইউনিট’ গঠন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, বাজেট ব্যবহার, এবং সামাজিক প্রভাব পরিমাপ করা উচিত।

  • উদ্যোক্তাদের ফিডব্যাক প্ল্যাটফর্ম: একটি ওপেন অনলাইন পোর্টাল চালু করা যেতে পারে যেখানে উদ্যোক্তারা সরকারি সেবা নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা জানাতে পারবেন। এতে সেবার মান যাচাই করা সহজ হবে।

  • পাবলিক ড্যাশবোর্ড: এসএমই নীতিমালার কার্যক্রম ও ফান্ড ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।

৩. মূল্যায়ন কাঠামো (Evaluation Framework):

  • ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন (Results-Based Monitoring): প্রকল্প বা প্রোগ্রামের সফলতা শুধুমাত্র ব্যয় নয়, বরং কতজন উদ্যোক্তা লাভবান হয়েছে, কতজন টিকে আছে, আয় কতটা বেড়েছে—এসব সূচকে মূল্যায়ন করা উচিত।

  • তৃতীয় পক্ষ দ্বারা ইভালুয়েশন: নীতিমালার প্রভাব ও কার্যকারিতা নিরীক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা থিংক ট্যাংককে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

  • পিরিয়ডিক রিভিউ: প্রতি বছর অন্তত একবার নীতিমালার অগ্রগতি নিয়ে পাবলিক রিভিউ করা উচিত যেখানে স্টেকহোল্ডার, মিডিয়া ও উদ্যোক্তারা অংশ নেবেন।

৪. বিকেন্দ্রীকরণ ও উদ্ভাবন:

  • জেলাভিত্তিক এসএমই পলিসি এডপশন: সকল জেলার জন্য এক নীতিমালা না করে, প্রয়োজন অনুযায়ী জেলাভিত্তিক কিছু ইনিশিয়েটিভ সংযোজন করা যেতে পারে।

  • উদ্ভাবনী প্রকল্পে পাইলটিং: পরীক্ষামূলকভাবে কিছু বিশেষ প্রকল্প (যেমন: নারী উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেম, ফিনটেক ভিত্তিক এসএমই ঋণ মডেল) চালু করে তার ফলাফল দেখে বড় আকারে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

উপসংহার: বাংলাদেশে একটি আধুনিক এসএমই নীতিমালা শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে সফল করতে হলে আমাদের দরকার পরিকল্পিত রূপায়ন কৌশল, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার কাঠামো এবং সময়োচিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা। এসব নিশ্চিত করতে পারলে এসএমই খাত হবে দেশের টেকসই অর্থনীতির চালিকাশক্তি।

পরবর্তী পর্বে আমরা আলোচনা করবো— এসএমই ফাইন্যান্স, কর্পোরেট সংযোগ ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় দিকগুলো।

লেখক: চাষী মামুন

সভাপতি, বাংলাদেশ এসএমই ফোরাম
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও, SME tv
প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, SME Shop Bangladesh
১৩ জুন ২০২৫ | ঢাকা, বাংলাদেশ

SME tv Desk/SME Forum/Dhaka/Bangladesh