SME Bangladesh : A History of Growth & Innovation
Bangladesh SME Forum
বাংলাদেশের এসএমই খাতের উন্নয়নে করণীয়: দ্বিতীয় পর্ব
সভাপতি, বাংলাদেশ এসএমই ফোরাম
SME tv Desk: প্রথম পর্বে আমরা এসএমই খাতের ভিত্তি, নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা ও কাঠামোগত সুপারিশ তুলে ধরেছি। এবার আমরা আলোচনায় আনবো আরও ডাইভারসিফাইড এবং বাস্তবমুখী তিনটি খাত— ১। কর কাঠামো, ২। উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, এবং ৩। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP)।
১. কর কাঠামো ও ট্যাক্স ইনসেনটিভ: বর্তমানে এসএমই উদ্যোক্তারা কর সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় জটিলতা, হয়রানি ও অপ্রতিস্পর্ধামূলক পরিবেশে পড়েন। তাই কর ব্যবস্থায় সমতা, স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল কার্যকারিতা আনয়ন জরুরি। একটি "এসএমই-ফ্রেন্ডলি ট্যাক্স গাইডলাইন" প্রণয়ন, টার্নওভার ভিত্তিক কর হার নির্ধারণ এবং কর-ফাইলিং পদ্ধতির ডিজিটাল সরলীকরণ দরকার। কর হ্রাসে সুনির্দিষ্ট ইনসেনটিভ (যেমন: নারী উদ্যোক্তাদের জন্য করছাড়, নতুন ব্যবসার জন্য ট্যাক্স হলিডে, গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য কর রেয়াত) বাস্তবায়ন হতে পারে। এছাড়া বিদ্যমান কর ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজাতে হবে। কর প্রদান প্রক্রিয়া সহজতর করতে হবে।
২. উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়ন: উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন গবেষণাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং ট্রেড ও বাজার-প্রসঙ্গিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট। বিদ্যমান ট্রেনিং একাডেমিগুলোকে মূল্যায়ন ও উন্নয়নে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা জরুরী। পাশাপাশি একটি 'জাতীয় উদ্যোক্তা গবেষণা ও ডেটা ইনস্টিটিউট' (National Entrepreneurship Research & Data Institute-NERDI) প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবী। উদ্যোক্তা কারিকুলাম জাতীয় শিক্ষানীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা, স্টার্টআপ ইনকিউবেশন সেন্টার ও ফ্যাব ল্যাব তৈরি, এবং প্রফেশনাল মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করতে হবে।
৩. সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) ও ক্লাস্টার ভিত্তিক উন্নয়ন: এসএমই খাতের টেকসই উন্নয়নে PPP মডেল একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে। সরকারি অবকাঠামো ও নীতির সাথে বেসরকারি বিনিয়োগ, ইনোভেশন এবং দক্ষতা সংযুক্ত করে সাপ্লাই চেইন, লজিস্টিক, ই-কমার্স হাব ও শিল্প ক্লাস্টার গঠন করা যেতে পারে। প্রতিটি জেলায় ১টি এসএমই শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তুলতে হবে যেখানে পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ও প্রাইভেট ইনোভেশন একসাথে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানকে এসএমই ইকোসিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নীতিগত প্রণোদনা জরুরি।
এসএমই খাতের প্রকৃত সম্ভাবনা বাস্তবায়নে প্রয়োজন নীতি, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার সমন্বয়। কর সংস্কার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং ক্লাস্টারভিত্তিক অংশীদারিত্ব যদি সঠিকভাবে কার্যকর হয়, তাহলে বাংলাদেশের এসএমই খাত শুধু অর্থনীতির গতিশীলতা নয়, কর্মসংস্থান ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাতেও নেতৃত্ব দিতে পারবে।
পরবর্তী পর্বে আমরা আলোচনা করবো – প্রযুক্তি ব্যবহারে এসএমই রূপান্তর, এক্সপোর্ট এক্সপানশন, এবং সবুজ অর্থনীতি ভিত্তিক এসএমই উদ্যোগ।
লেখক: চাষী মামুন